বড়লেখায় পিঁয়াজের বাজারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান : ২২ হাজার টাকা জরিমানা

বড়লেখা :: বড়লেখা পৌরশহরের বিভিন্ন পিঁয়াজের দোকানে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অপরাধে ২২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকারের মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক আল-আমিন। এসময় স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আফছার আলী ও পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, শহরের ডাকবাংলা রোড, রেলওয়ে মার্কেট, পৌর মার্কেট ও তার আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থানে পিঁয়াজের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের ন্যায়্য মূল্যে পিঁয়াজ বিক্রিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালায়।

উক্ত অভিযানে মূল্য তালিকা না রেখে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রয় করার দায়ে মেসার্স সামছু ভেরাইটিজ ষ্টোরকে ৫ হাজার টাকা, রেলওয়ে মার্কেটের ভাই ভাই ট্রেডার্সকে ৭ হাজার টাকা, মেসার্স আল্লার দান ষ্টোরকে ৭ হাজার টাকা, পৌর মার্কেটের মদিনা ভেরাইটিজ ষ্টোরকে ৩ হাজার টাকাসহ মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়।

শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সরকারের নেতৃত্বদানে শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই। দলের নেতা-কর্মীরাই শুধু নন, আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষী, নাগরিক সমাজ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শরিকরাও এমনটি মনে করেন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর অভিপ্রায় ব্যক্ত করে নতুন নেতৃত্বকে এগিয়ে আসবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসা তো দূর কথা শেখ হাসিনার বিকল্প কাউকে ভাবতেই রাজি হননি নেতা-কর্মীরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এবং দেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানি সফরকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামীতে তার দল বিজয়ী হলেও তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হবেন না। প্রায়ই তিনি বলে আসছেন যে, তার বয়স হয়েছে, তিনিও ক্লান্ত হন। অনেক হয়েছে, আর নয়।

কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষকরাও মনে করেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখনো শেখ হাসিনার বিকল্প নেতৃত্ব যেমন তৈরি হয়নি তেমনি দল ক্ষমতায় এলে দেশ চালনার দায়িত্ব নিতে তার মতো রাষ্ট্রনায়কোচিত, প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব দলে নেই। বিশ্বরাজনীতিতেও তার চেয়ে অনেক বেশি বয়সে অভিজ্ঞ, সফল রাজনীতিকরা দল ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সত্তরোর্ধ্ব হলেও শেখ হাসিনা এখনো শারীরিকভাবে যেমন সক্ষম তেমনি কর্মেও বয়সের তুলনায় যথেষ্ট সচল। সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে দল এবং দেশ পরিচালনায় প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা নিরন্তর কাজ করেন। তাহাজ্জুদের নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত আর দৈনিক পত্রিকা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনে তিনি ফাইলের পর ফাইল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেন। তার কাছে কোনো ফাইল আটকে থাকে না। মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকে শুরু করে একনেকের বৈঠকের সব এজেন্ডা ও প্রকল্প সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল থাকেন। দলের তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি নেতা-কর্মী সম্পর্কে যেমন পরিষ্কার ধারণা রাখেন, যোগাযোগ রাখেন, তেমনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম এমনকি বিভিন্ন পেশাজীবীর কর্মকা সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে হারিয়ে দিল্লির নির্বাসিত দীর্ঘ বেদনাদায়ক সময় অতিক্রম করে ১৯৮১ সালের ইডেন কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। সামরিক শাসনকবলিত অন্ধকার সময়ে গণতন্ত্রের বাতিঘর হয়ে স্বজন হারানের বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে বৈরী স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মতো অসীম সাহসিকতার সঙ্গে গণতন্ত্রের সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরে তিনি আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীর আবেগ-ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আশ্রয় ও ঐক্যের ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বার বার তার জীবনের ওপর হামলা এসেছে। কারাদহন এসেছে। তবু তিনি মাথা নত করেননি। কঠিন ও কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর পর তিনিই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে দেশেই নয়, উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন। এমনকি সব গণতান্ত্রিক শক্তির বৃহৎ ঐক্য গড়ে তুলে ছাত্রসমাজের আন্দোলনের অভিভাবকত্ব নিয়ে সামরিক শাসনের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের নবযাত্রায় দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে অবৈধ শাসকদের জমানো পাপের জঞ্জাল সাফসুতরো করে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার করে তাদের ফাঁসিতে ঝোলান। জনমত গড়ে গণরায় নিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিতে গিয়ে বিশ্ব মোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার অসমাপ্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি এখন নিরলস পরিশ্রম করছেন। কঠোর হাতে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমন করে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর উচ্চতায় নিয়েছেন। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে শুধু উৎসাহিতই করেননি, তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবও ঘটিয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশের অগ্রগতিকে এক কথায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্রপট দেখে হামেশাই অনেকে বলছেন, মাহাথিরের হাত ধরে যে মালয়েশিয়ার উত্থান ঘটেছে, লিকুয়ানের হাত ধরে যে সিঙ্গাপুর পৃথিবীতে মাথা উঁচু করেছে শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারবন্দী হয়ে উন্নত-আধুনিক রাষ্ট্রের চেহারা নিতে যাচ্ছে। অন্যদিকে দলের সারা দেশের এখন যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই শেখ হাসিনার সৃষ্ট কর্মী। শেখ হাসিনার আন্দোলন-সংগ্রামে দৃঢ়তার সঙ্গে বার বার রাজপথে নেমে তারা নেত্রীর প্রতি তাদের আনুগত্যের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই কর্মীরাই তাকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় গণতন্ত্রের মানসকন্যা থেকে দেশরত্ন উপাধিতে ভূষিত করেছেন। এই কর্মীরাই তার দেশে আসার পর স্লোগান তুলেছিলেন- ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই আমরা আছি লাখো ভাই’। এই কর্মীরাই আবার স্লোগান দিচ্ছেন- ‘শেখ হাসিনার হাতে যতক্ষণ দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ’। নেতা-কর্মীদের সব আবেগ-অনুভূতি আশ্রয়ের ঠিকানা শেখ হাসিনা; তাই তারা দল ও সরকারের নেতৃত্ব থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে দিতে নারাজ। আগামী অক্টোবর কাউন্সিলেও তিনি সরতে চাইলেও তারা তা হতে দেবে না। নেতা-কর্মীরা মনে করেন যত দিন তিনি সক্ষম-সুস্থ থাকবেন তত দিনই নেতৃত্ব দেবেন। তার নেতৃত্বে দলের সাফল্যই কেবল অর্জিত হয়নি, রাষ্ট্রও উন্নয়নের সড়ক ধরে শিল্পবিপ্লবের দিকে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনা আমাদের বিকল্পহীন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। গত ৩৮ বছরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে তিনি কেবল দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির সভানেত্রীই নন, দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে একজন অপরিহার্য নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে দেশের ১৬ কোটি মানুষ মনে করে শেখ হাসিনার কাছেই নিরাপদ বাংলাদেশ। ’ সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ যে স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখে সেই বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য একমাত্র শেখ হাসিনাকেই বার বার প্রয়োজন। দেশ এখন যে উন্নয়নের মহাসড়কে ছুটে চলেছে তা গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে শেখ হাসিনার মতো দক্ষ, যোগ্য ও সাহসী নেতার মতোই একজন রাষ্ট্রনায়ক প্রয়োজন। আমরা মনে করি আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার জায়গা পূরণের মতো কোনো নেতা আমাদের দলে নেই। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই দল এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। এটিই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রত্যাশা। ’

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর আওয়ামী লীগকে শুধু খি ত করাই নয়, নিঃশেষ করারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল সাময়িক দুর্বল করতে পারলেও জিয়াউর রহমান তার মনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শত প্রতিকূলতার মাঝে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরেন। দলের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে শেখ হাসিনা পরিণত হন আস্থার ঠিকানায়। ঘুরে দাঁড়ায় দল। দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। যার পুরো কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। ক্ষমতার পাঁচ বছরে দেশবাসী পায় একজন সফল প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু পাঁচ বছর পরই আবার শুরু বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন। এ সময় আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দল এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর যে সন্ত্রাস-নির্যাতন চলে তার ভিতর দিয়ে নতুন করে প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। পরপর টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশেই নন, বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদের কাছে অনুকরণীয়। শেখ হাসিনা শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নন, তিনি এখন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনা তিলে তিলে আওয়ামী লীগকে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, দলকে সংগঠিত করেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে অনুসরণীয়। তিনি শুধু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছেই নন, বরং সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন সুদক্ষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও অগ্রগণ্য। কাজেই আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই। কিন্তু নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তার প্রতি নেতা-কর্মীদের যে পরিমাণ আস্থা রয়েছে অন্য কোনো নেতার প্রতি তা নেই। ফলে তিনি জানেন তার বিকল্প নেতৃত্ব কে হতে পারেন। তিনি তো আর আজীবন থাকবেন না। কিন্তু এ দেশ এবং দল পরিচালনার জন্য এখন থেকেই তার সুযোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে নিতে হবে নেতা-কর্মীদের। ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এ উপমহাদেশে আওয়ামী লীগ অনেক পুরনো সংগঠন। এ সংগঠনে নতুন নেতৃত্বের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু আমি মনে করি, আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ সংগঠন পরিচালনা করার জন্য যে সক্ষমতা, দূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রয়োজন তা বর্তমানে একমাত্র শেখ হাসিনারই রয়েছে। হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের দায়িত্বে রয়েছেন। তার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু দলের নেতারা শেখ হাসিনা ছাড়া বর্তমানে কাউকে মেনে নেবেন না। তৃণমূলের কর্মীরাও এমনটা কল্পনা করেন না। বর্তমানে শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ কল্পনা করে না। ’ এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে শেখ হাসিনার বিকল্প বর্তমানে নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দেশকে, দেশের জনগণকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতটা ভিশন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো তার বিকল্প সম্ভব নয়। ’

দলের বা আত্মীয় পরিচয় দেখতে চাই না, অভিযান চলবেই : প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অভিযানে কে দলের, কে কী বা কে আমার আত্মীয়-পরিবার এসব আমি দেখতে চাই না। অভিযান অব্যাহত থাকবেই।

সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারের নেয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। কারণ, আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে হবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকের সাথে সাথে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান না চালানো হয় তাহলে সমাজে একটা বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে উন্নয়নের প্রকল্প তৈরি করি। যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও উন্নত হবে, আরও এগিয়ে যাবে। সমাজের বৈষম্যটাও দূর হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) আমার দলের কে কী, সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিবার দেখতে চাই না, বিত্তশালী কেউ আছে কি-না -এটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবেই।

তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, আমি জানি এটা খুব রিস্কি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা একটা (অবৈধ সম্পদ অর্জন) অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা মুষ্টিমেয় লোক করে যাচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষ করে না, কিন্তু এর প্রভাবটা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়। সেখান থেকে দেশটাকে তো রক্ষা করতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। আমাদের জীবনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সমস্যাটা প্রায় তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করছে। আমরা মিয়ানমারের সাথে আলোচনা এবং একটি চুক্তিও করেছি যে, তারা তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে। কিন্তু ফেরত নেওয়ার সময় আর ফেরত নেয়া হচ্ছে না।

এসেছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার কেজি পেঁয়াজ, আসছে আরও

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পরেরদিনই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৬৪ হাজার কেজি পেঁয়াজ। মিশর ও চীন থেকে এসব পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কনটেইনারে করে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, তিনজন আমদানিকারক এসব পেঁয়াজ এনেছেন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো জেনি এন্টারপ্রাইজ, এন এস ইন্টারন্যাশনাল, হাফিজ করপোরেশন। কনটেইনারবাহী জাহাজ এমভি কালা পাগুরো, জাকার্তা ব্রিজ ও কোটা ওয়াজারে করে এসব চালান এসেছে। এই তিন জাহাজে পেঁয়াজবাহী কনটেইনারের সংখ্যা ১৪টি।

বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, কনটেইনারবাহী জাহাজ তিনটির মধ্যে দুটি থেকে কনটেইনারে থাকা পেঁয়াজ খালাস হচ্ছে। আরেকটি জেটিতে ভিড়ানোর পর খালাস হবে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ থেকে পেঁয়াজ খালাসের পর শুল্কায়ন করে বন্দর থেকে ছাড় নিতে এক-দুদিন সময় লাগে। এ হিসেবে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ কাল-পরশু থেকে বাজারে চলে আসার কথা।

চীন ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরুর পর হাতে পেতে ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২৫-৩০ দিন আগে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানির খোঁজখবর শুরু করেন। বন্দরে আসার পথে আছে আরও কনটেইনারবাহী পেঁয়াজ।

লন্ডনে বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: যুক্তরাজ্যে সফররত বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদকে লন্ডনে এক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সোমবার (৩০সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় ব্রিকলেনের আমার গাঁও রেস্টুরেন্ট হলরুমে দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে-এর উদ্যোগে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা সংবর্ধিত অতিথিকে দলমতের ঊর্ধ্বের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান মানুষ। তাঁর মতো ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে এলাকার উন্নয়ন হবেই।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি সাবেক ব্যাংকার নাজমুল হক টুনুর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটসের অন্যতম কাউন্সিলার রাজিব আহমদ।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ।

বক্তব্য রাখেন গ্রেটার বড়লেখার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জীবন, মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, সোসাইটির সেক্রেটারি আব্দুল গফুর মফিক, সাবেক সেক্রেটারি মজির উদ্দিন মনু,সহ সভাপতি হেজাজ আলম, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সোহরাব হোসাইন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সল আহমদ রাসেল, সাংবাদিক জিয়াউর রহমান, আব্দুল কুদ্দুছ, আজিজুর রহমান, আবু নোমান প্রমুখ।

সংবর্ধিত অতিথি সোয়েব আহমদ তাঁর বক্তব্যে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে আমাদের বড় পরিচয় ‘আমরা বড়লেখাবাসী’। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অবশ্যই দৌলতপুর গ্রামের উন্নয়ন সম্ভব। আমি আমার অবস্থান থেকে মাদ্রাসা,স্কুল, মসজিদ,রাস্তাঘাটের উন্নয়নে পাশে পাবেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সদস্য সাবুল আহমদ,জেবুল আলম, রুহেল আহমদ,আব্দুল আহাদ,শিরিন আহমদ,ফেরদৌস আহমদ,লু্ৎফুর রহমান,দেলওয়ার হোসাইন,জাহেদ আহমদ, পারবেজ আহমদ,আবু কাসেম,মাহমুদুল হাসান এমরান,কাওসার আহমদ,উবায়েদ হাসান প্রমুখ। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথিকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

মৌলভী বাজারের বড়লেখায় ইয়াবাসহ আটক ৩

, বড়লেখা :: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইয়াবাসহ তিন যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

রবিবার সন্ধ্যায় পাখিয়ালা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালা গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মো. লাভলু মিয়া (২৭), সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (২৫) ও পৌরসভার বালিচর গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে আব্দুল আহাদ (২১)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন যুবক পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে দুজনের নামে এর আগে মামলাও ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাখিয়ালা এলাকার একটি কলোনির সামন থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।

Wঅভিযানে অংশ নেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এ রকিব মোহাম্মদ, মিন্টু চৌধুরী ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. জাহিনুর রহমান। এ ঘটনায় তিনজনের নামে মামলা হয়েছে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বলেন, ‘আটককৃতদের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

ক্যাসিনোকান্ড: ইমিগ্রেশনে সতর্কতা জারি

এবিসি নিউজ:

এবিসি নিউজ:ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তসহ পুলিশ ইমিগ্রেশনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যায় সতর্কতার বিষয়টি বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ইমিগ্রেশনের ওসি মহসিন খান জানান, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও সীমান্তপথে বিভিন্ন কৌশলে তারা ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। ফলে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পুলিশ ইমিগ্রেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত এলাকা ঘুরে পুলিশ ও বিজিবির এই নজরদারি ও সতর্কতা চোখে পড়ে। ইমিগ্রেশনে ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নাম, ঠিকানা যাচাই ও পাসপোর্টের সঙ্গে তাদের ছবি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া একাধিক বা জাল পাসপোর্ট যাতে ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য যাত্রীর ছবি তোলা এবং হাতের ছাপ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোনোভাবেই যাতে অবৈধভাবে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাসিন খান পাঠান ঢাকাটাইমসকে জানান, ঢাকা পুলিশের এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) থেকে তাদের কাছে একটি নির্দেশনা এসেছে। যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও নেপালের নয় নাগরিক যাতে কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারেন এর জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন আরও নামের তালিকা আসছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা ও ২১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় ঘোষিত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবে সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হযেছে।

পূজা উপলক্ষে আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

পূজা উপলক্ষে আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

সিলেট জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স এর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এসপি এম শামসুল হক মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

এসময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে জরুরি মুহূর্তে জেনারেটর রাখা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন, নারী-পুরুষ আলাদা লাইনে প্রবেশ ও বাহিরের ব্যবস্থা করা, সম্ভব হলে সিসিটিভি স্থাপন করা, প্রতিটি মন্ডপে আগুন নিয়ন্ত্রক সিলিন্ডার রাখাসহ বিভিন্ন দিক নিদের্শনা প্রদান করেন।

জেলা বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন ঘোষ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) ইমাম মোহাম্মদ শাদিদ, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়সহ সিলেট জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সকল থানার ওসিগণ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও সিলেট জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, সভাপতি সুব্রত কুমার দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সকল থানা থেকে আগত পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সকলের মতামত গ্রহণ করেন।

সভায় পুলিশ সুপার জানান, সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে নিজ নিজ ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।

ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে শেখ হাসিনার নির্দেশ

:: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং অযোগ্যতার কারণে এ কমিটি ভেঙে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যৌথসভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, রংপুর-৩ এর উপ-নির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত এ বৈঠকে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তোলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষ করে তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না। এ সময় মনোনয়ন বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরাও আলোচনায় অংশ নেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে একই ধরনের অপর একটি ঘটনার কথা এ সময় উঠে আসে।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ আসা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করার বিষয়ে এ সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

একইসঙ্গে বাদ পাড়াদের সংখ্যা উল্লেখ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও তারা কারা সেটা স্পষ্ট না করা ও পরে বাদ দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর না করা, পাশাপাশি অনেক ত্যাগীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাদ পড়াদের অনশনের কথাও তোলেন দু’জন নেতা।

এছাড়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধুর ক্যান্টিনে মাঝে-মধ্যেই অনুপস্থিত থাকা, ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বিবাহিত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন নেতারা। এছাড়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দু’জনের বিরুদ্ধেই অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ নিয়েও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কানাঘুষা রয়েছে।

সূত্রমতে, অন্তত: দশ মিনিট ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এ সভায় আলোচনা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন। আওয়ামী লীগের পরামর্শ ও নির্দেশনায় সংগঠনটি চলে। আজকের সভার সূত্র আরও জানায়, সভা চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেটা দেখতে পেয়ে আওয়ামী লীগের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আব্দুর রহমান তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন। এরপরও তারা গণভবন ত্যাগ না করলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের গণভবন থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর তারা গণভবন ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে সম্মেলনের এক বছরের মাথায় ৩০১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনটির ভেতর থেকেই নানা সমালোচনা চলছিল। এরআগে ২০১৮ সালের ১২ ও ১৩ মে সম্মেলনে কমিটি করতে ব্যর্থ হয় ছাত্রলীগ। পরে একই বছরের ৩১ জুলাই সম্মেলনের দুই মাস পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম আওয়ামী লীগ সভাপতি চূড়ান্ত করার পর তার ঘোষণা দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সৌজন্যে: বাংলা ট্রিবিউন

বড়লেখার মেয়র কামরান চৌং দ: কোরিয়ায় প্রশিক্ষণে উপস্তিত।

মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার মেয়র দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডের ৯ দিনের সরকারি সফরে বড়লেখা পৌরসভার স্বনামধন্য মেয়র জনাব আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী আজকে চতুর্থ দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার Chuncheon City Hall পরিদর্শন করে সেখানকার Intregrated Command Control Center-এ কীভাবে শহর নিয়ন্ত্রণ করা হয় তা পরিদর্শন করেন। তিনি Chuncheon City-এর Vice Mayor -এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত সেমিনারে বড়লেখা পৌরসভাকে নিয়ে তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা পেশ করেন এবং বাস্তবায়ন করার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। বড়লেখা পৌরসভাকে নিয়ে এরূপ সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার জন্য সেমিনারে উপস্থিত অন্যান্য পৌর মেয়রবৃন্দ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিববৃন্দ উনার প্রশংসা করেন এবং বাস্তবায়ন করতে সকল ধরনের সহযোগীতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

Design a site like this with WordPress.com
Get started