সামাজিক অবক্ষয় ও আমাদের করনীয়।

মানুষ যখন বিভিন্ন প্রতিকূলের কারণে নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন কি সে চিন্তা করে এর শেষ পরিণাম কী? সামনে তার কত অশান্তি ভোগ করতে হবে। মাদকাসক্তি সামান্য তৃপ্তি আর শান্তি, কিন্তু এ শান্তি কি প্রকৃত শান্তি? এ তৃপ্তি কি প্রকৃত তৃপ্তি? কখনও নয়। কিন্তু কেন এ কৃত্রিম শান্তি আর তৃপ্তির পেছনে সবাই? আসুন দেখি নিই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির কুফল।

১. ধর্মীয় কুফল
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তার ইবাদত ও তাকে স্মরণের জন্য। কিন্তু তার এ মহান উদ্দেশ্য অর্জনে প্রধান বাধাদানকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তি মানুষকে নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত, নেক কাজ তথা সর্বক্ষণ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে রাখে। লিপ্ত করে পাপাচার, অশ্লীলতা, হাইজ্যাক, পতিতাবৃত্তি, স্মাগলিং ও মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো সমাজের জঘন্যতম বিকৃত কাজে।
২. দৈহিক কুফল
মাদকাসক্তি মানবদেহে অত্যন্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি সেবনের ফলে হজমশক্তি লোপ পায়, ক্ষুধামান্দ্য, পাকস্থলীতে ঘা, স্নায়ু দুর্বলতা, হৃৎপি-ের দুর্বলতা, লিভার ও কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। শিরা-ধমনির শক্তি ক্ষয় হয় এবং অকালে বার্ধক্য আসে। এসব ছাড়া আরও অনেক দৈহিক কুফল বয়ে আনে এটি।
৩. মানসিক কুফল
মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও মস্তিষ্কের ওপর মাদকাসক্তির প্রতিক্রিয়া আরও মারাত্মক ও ক্ষতিকর। এতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে মস্তিষ্কের উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তির স্তর। ব্যক্তি হয়ে পড়ে মাতাল ও লজ্জাহীন। একপর্যায়ে চেতনাশক্তি হারিয়ে ফেলে।
৪. সামাজিক কুফল
মাদকাসক্তি শুধু মানবতা ও নৈতিকতাবিরোধী কার্যকলাপের দিকেই উদ্বুদ্ধ করে না বরং মানুষকে যাবতীয় মন্দ ও ঘৃণ্যতর কাজের দিকেও ধাবিত করে। আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) এর ভাষায়, ‘মাদকাসক্তি সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার উৎস।’ দুঃখজনক হলেও সত্য, এ সর্বনাশা অভিশাপের শিকার সমাজের সর্বস্তরের লোক।
৫. অর্থনৈতিক কুফল
অর্থনৈতিক দিক দিয়েও মাদকাসক্তি বিপুল ক্ষতি করে থাকে। নেশার তাড়নায় সুরাসক্ত ব্যক্তি নিজের সর্বস্ব বিক্রি করেও ক্ষান্ত হয় না। পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে সমাজের আরও দশজনের টাকা-পয়সা লুটপাট করে জাতীয় জীবনে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে টেনে আনে মারাত্মক ধস। এমনিভাবে মাদকাসক্তি প্রাচুর্যের অধিকারীকেও নিঃস্ব ও পথের ভিখারি করে তোলে। বিড়ম্বনা, হতাশা ও দুর্ভোগ তখন তার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিরোধ
পৃথিবীতে কোনো ধর্মই মাদকদ্রব্য ব্যবহার অনুমদিত করেনি। আর ইসলামের দৃষ্টিতে সব ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবহার একটি জঘন্য ধর্মীয় ও সামাজিক অপরাধ। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘মানুষ তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, বলো দুইটিই বড় পাপের কাজ এবং মানুষের জন্য তাতে তুচ্ছ উপকার থাকলেও উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি।’ (সূরা বাকারা : ২৯৯)। অপর এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিলেন, ‘হে মোমিনরা! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার।’ (সূরা নিসা : ৪৩)।
এ ব্যাপারে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘নেশাজাতীয় যে কোনো দ্রব্য মদের অন্তর্ভুক্ত। আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (বোখারি)। প্রিয়নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদপান করে, যে মদপান করায়, মদের ক্রয় ও বিক্রয়কারী, প্রস্তুতকারী, আর যে প্রস্তুত করায়, যে ব্যক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে, যার জন্য বহন করা হয় এবং যারা মদের লাভ্যাংশ ভোগ করেÑ এদের সবার প্রতি আল্লাহ তায়ালার অভিশাপ রয়েছে।’ (মুসলিম)।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অভিমত
অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের অভিমত হচ্ছে, নেশার অভ্যস্থ মানুষের বোধশক্তিকেও দুর্বল করে দেয়। নেশার প্রভাব চৈতন্য ফিরে পাওয়ার পরও ক্রিয়াশীল বাকি থাকে। অনেক সময় মানুষ এতে পাগলও হতে পারে। চিকিৎসাবিদদের সবাই একমত যে, শরাব কখনও শরীরের অংশে পরিণত হয় না, শরীরে রক্তও সৃষ্টি হয় না। তবে রক্তের মধ্যে একটা সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়মাত্র। ফলে শক্তির সামান্য আধিক্য অনুভূত হয়। কিন্তু হঠাৎ রক্তের এ উত্তেজনা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফ্রান্সের বিশিষ্ট প-িত হেনরি তার গ্রন্থে লিখেছেন, প্রাচ্যবাসীকে উৎখাত করার জন্য সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র এবং মুসলমানদের খতম করার জন্য নির্মিত দুধারী তলোয়ার ছিল এ শরাব। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞ ব্যান্টাম লেখেন, ইসলামী শরিয়তের অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য যে মদ্যপান নিষিদ্ধ, সত্যি শান্তিময় এ এক ধর্ম।
আমাদের করণীয়
বর্তমানে আমাদের দেশে মাদকাসক্তির প্রবণতা যে হারে বেড়ে চলছে, তা দমনের জন্য কঠোর কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া না হলে পুরো জাতি ধ্বংসলীলার শিকারে পরিণত হতে বাধ্য। কোরআনি তথা ইসলামী নীতি অবলম্বন করে মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
প্রস্তুতকারকের ভূমিকা
প্রথম এ দায়িত্ব বর্তায় যারা মাদকদ্রব্য প্রস্তুত, প্রচলন ও সরবরাহের কাজে জড়িত তাদের ওপর। তাদের জাতীয় স্বার্থে এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। দেশ ও জাতির ক্ষতি সাধন করে নিজেদের আর্থিক ফায়দা লুটার মানসিকতা পরিবর্তন করা দরকার।
পারিবারিক দায়িত্ব
দ্বিতীয়ত, পরিবারপ্রধানদের উচিত, তারা যেন নিজেদের সন্তানসন্ততিকে মাদকদ্রব্যের ক্ষতি সম্পর্কে উত্তম প্রশিক্ষণ দান করেন এবং সতর্ক থাকেন যাতে তারা এ কু-অভ্যাসে কোনো মতেই লিপ্ত হতে না পারে। সর্বোপরি সন্তানদের যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে মাদকাসক্তির ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে
ইমাম ও আলেমদের ভূমিকা
মসজিদের ইমামরা মাদকদ্রব্যের ক্ষতির দিক সম্পর্কে ওয়াজ-নসিহত করার মাধ্যমেও এর বিস্তৃতি রোধ করতে পারেন। আলেমরা জুমার খুতবায় এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন। এভাবে সেমিনার, আলোচনা সভা করে মাদকাসক্তি রোধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে পারেন।
শিক্ষকদের ভূমিকা
এক্ষেত্রে শিক্ষকরা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষকদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা যেন এ মন্দকাজে জড়িয়ে না যায়। একজন শিক্ষক জানেন কীভাবে তার ছাত্রকে বিভিন্ন কু-অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে হয়। একজন শিক্ষক পারেন আদর্শ এক ছাত্র উপহার দিতে।
সমাজ নেতাদের কর্তব্য
মাদকদ্রব্যে প্রসার রোধকল্পে সমাজ নেতাদের যথেষ্ট ভূমিকা চাই। কোনো পাড়ার সরদার বা সমাজ নেতা যদি মাদকদ্রব্যের প্রসার রোধের দৃঢ়সংকল্প নিয়ে প্রচেষ্টা চালান, তাহলে সে পাড়া বা সমাজে কখনও মাদকদ্রব্য ব্যবহারের প্রসার ঘটতে পারে না।
আইন প্রণয়ন সংস্থার দায়িত্ব
মাদকাসক্তি রোধে আইন প্রণয়ন সংস্থা অনেক বড় দায়িত্ব রাখে। যারা মাদকদ্রব্য প্রস্তুত করে প্রচার করে সবাইকে কঠোর শাস্তি দেয়া। আর এদের বিরুদ্ধে কঠিন বিধান জারি করা। তাহলেই ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত নির্মূল হবে। এভাবেই একটি সুন্দর সমাজ দিতে পারবে আইন সংস্থা।

জুড়ীতে বাসরঘর থেকে নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর যুবক উদ্ধার।

:: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর এক যুবককে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের আতলীঘাট গ্রামের এক ইটসলিং রাস্তায় আব্দুল কাদির শুকুর (২৭) নামের ওই যুবককে হাত-পা বাধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ীতে ফোন করে জানান স্থানীয় মসজিদের ইমাম। খবর পেয়ে শুকুরের স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এনে চিকিৎসার জন্য জুড়ী আধুনিক (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছেন শুকুর সুস্থ রয়েছে। তাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। সে পুরোপুরি সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বাছিরপুর চাক্কাটিলা গ্রামের চরু মিয়ার পুত্র শুকুর শুক্রবার রাতে বিয়ে করে বউ বাড়ীতে আনেন। রাত ১২টার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া শুকুর ঘর থেকে বের হয়ে ফিরে আসেনি।

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বাসর রাতে বর নিখোঁজ

:: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বাসর রাতে নিজ বাড়ী থেকে আব্দুল কাদির শুকুর (২৭) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) এমনটাই ঘটে বলে জানা যায়।

শুকুর উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বাছিরপুর চাক্কাটিলা গ্রামের চরু মিয়ার পুত্র।

শুকুরের বড় ভাই সদ্য দুবাই ফেরৎ নুর ইসলাম (৩২) জানান, স্থানীয় বাছিরপুর ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারী শুকুর প্রায় ছয় মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী জায়ফরনগর ইউনিয়নের কাটানালারপার গ্রামের আখিঁ আক্তার নামে এক মেয়েকে নিজ পছন্দে বিয়ে করেন। শুক্রবার রাতে কনেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাড়ীতে উঠিয়ে আনা হয়। রাত ১২টার পর আখিঁকে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে শুকুর ঘর থেকে বের হন। দীর্ঘক্ষণ পর তিনি নিজ কক্ষে ফেরত না আসলে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বাথরুমের নিকটে শুকুরের পায়ের জুতা ও গায়ের গেঞ্জি পাওয়া গেলেও শুকুরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নুর ইসলাম জুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।

বড়লেখায় একদিনে তিন লাশ উদ্ধার

, বড়লেখা :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় শনিবার (৩১ আগস্ট) এক অজ্ঞাত পরিচয়ের নারীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
তাঁরা হলেন-বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মৃত রমনি দাসের ছেলে কৃষক রনজিত দাস (৫০) ও তালিমপুর ইউনিয়নের সরুয়ামাঝি গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আলী আছকর (৪৫)। অন্যদিকে অজ্ঞাত নারীর লাশ দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চুকারপুঞ্জি এলাকার ছড়া থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালিমপুর ইউনিয়নের সরুয়ামাঝি গ্রামের সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আলী আছকরের লাশ ঘরের পাশের আম গাছের ডালের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আলী আছকর আগের রাতে ১১টায় খাবার খেয়ে পরিবারের সবার সাথে ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের চানপুর এলাকায় নদীর পাড়ের একটি বরুণ গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় কৃষক রনজিত দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের রাত দুইটার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরেননি। শনিবার সকালে তাকে খোঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পায় তার পরিবার।

অন্যদিকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চুকারপুঞ্জি এলাকার মাধবছড়া খালের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম শনিবার অজ্ঞাতনামা নারীসহ তিজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার বিকেলে বলেন, ‘তিনটি পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ভারতে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ২০ নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিস্ফোরণের পর রাসায়নিক কারখানাটি থেকে ধোয়া উঠতে দেখা যায় –

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ধুলে জেলার শিরপুরে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছে আরো ১৫ জন। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। শিরপুর তালুকার ওয়াগাধি গ্রামে কেমিক্যাল কারখানাটি অবস্থিত।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- বিস্ফোরণের পর ওই কারখানার ভিতর আটকে পড়েছে ৮০ জন মানুষ। পাশাপাশি রাসায়নিক গ্যাসের কারণে কারখানার আশেপাশের এলাকায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি গাড়ি পৌছে আগুন নিযন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে মহারাষ্ট্র পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় কারখানায় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০০ শ্রমিক। সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচুর দাহ্য পদার্থ রয়েছে ওই কারখানায়। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর একাধিক সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায় বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

শিরপুরের পুলিশ জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলার দফতরের কর্মীরা। উদ্ধারকাজে নজরদারি রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের অফিসরারও উপস্থিত রয়েছেন।

অপকর্মের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৪১ এনজিও প্রত্যাহার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন (ছবি: হারুন উর রশীদ)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পর ১৩৯টি এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল। এদের মধ্যে অপকর্মে লিপ্ত থাকায় তালিকা করে ৪১টি এনজিওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ সুরমায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন এনজিও একই কাজ করছে। সে ধরনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও নানাভাবে তদবির করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার।’

উল্লেখ্য, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন হতে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন-পুরনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে।

শহর উন্নয়নমুলক সেমিনারে যোগদিতে দঃ কুরিয়া যাচ্ছেন বড়লেখার পৌরমেয়র কামরান চৌধুরী ।

মৌলভী বাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ‘শহর উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা বিষয়ক’ সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে কাল শনিবার ১০ দিনের সফরে দক্ষিণ কুরিয়া ও থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র হিসাবে আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী দক্ষিণ কুরিয়া ও থাইল্যান্ডে ১০ দিনের সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য মনোনিত হন। প্রথমে দক্ষিণ কুরিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫ দিনের সেমিনারে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। পরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আরো ৫ দিনের সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন। কাল শনিবার থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে মেয়র কামরান দক্ষিণ কুরিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।
সরকারী বিদেশ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বড়লেখা পৌরবাসীসহ প্রত্যেক উপজেলাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সরকারি চিকিৎসকদের বাইরে প্র্যাকটিস না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে আবারও নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ অভিব্যক্তির কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

একনেক সভায় ‘কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন, মানিকগঞ্জ’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ এলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, সেখানেও চিকিৎসকরা যেতে চান না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তার আমরা দিই, কিন্তু ডাক্তার যেতে চান না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা তো আমাদের চেষ্টা করতে হবে মিটমাট করার জন্য। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন, ডাক্তাররা যেখানে চাকরি করেন, সেখানে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করলে তবুও হয়তো কিছুটা ভালো হতো।

যখন চাকরি করেন এক জায়গায়, প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করেন আরেক জায়গায় বা পার্টটাইম পড়ান আরেক জায়গায়, তখন তারা হাসপাতালে থাকতে পারেন না। দুঃখের সঙ্গে, বিরক্তির সঙ্গে, ক্ষোভের সঙ্গে, অভিমানের সঙ্গে কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

প্রধানমন্ত্রী এর আগেও কথাগুলো বলেছিলেন, আজ আবার পুনরাবৃত্তি করেছেন বলে মন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ড্রেন ওয়াটার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। নিজেরা করেন, বাড়ির আশপাশে খাল-বিল, পুকুর থাকে, সেগুলো পরিষ্কার করে তাতে পানি সংরক্ষণ করেন। কাজে লাগবে। বিশেষ করে আগুন লাগলে দমকল বাহিনী পানি পায় না। এটা খুব বেশি দরকার।’

শ্রমিক, চালক, হেলপারদের প্রতি মানবিক সুবিধা, সহযোগী হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে সব জায়গায় গাছপালা রাখার বিধান রাখতে হবে।’

ওভারলোডিংয়ের (মাত্রাতিরিক্ত চাপ) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্রোয়িং ইকোনমি, ওভারলোডিং হয়। ওভারলোডিং সম্পর্কে আমরা সচেতন। ওভারলোডিং কমানোর জেনারেল ইন্সট্রাকশন এসেছে যে, আপনারা যান, খোঁজ-খবর নেন। আমরা স্বীকার করি, গ্রোয়িং ইকোনমির এই পর্যায়ে ওভারলোডিং পুরোপুরি এভয়েড করতে পারব না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা হচ্ছে না, হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না– সবকিছুই ওভারলোডিং। এগুলোকে সহ্য করে মনিটরিং করতে বলেছেন তিনি।’

‘নানা সংস্থা কাজ করছে। আপনারা একে অন্যের গায়ে ঠোকর মারবেন না’- দেশে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতি এ আহ্বান রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেই যুগ্মসচিবসহ ৪ জন ছেলেটির মৃত্যুর জন্য দায়ী, তদন্ত রিপোর্ট

মাদারীপু‌রে ভিআইপি চলাচলের জন্য নির্ধারিত সময়ে ফেরি না ছাড়ায় মুমূর্ষু স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্মস‌চিব আবদুস সবুর মন্ডল, ফে‌রিঘা‌টের তিন কর্মকর্তা‌সহ চারজন‌কে দায়ী ক‌রে তদন্ত প্রতি‌বেদন দা‌খিল ক‌রে‌ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।‌

নৌপ‌রিবহন স‌চিব মো. আবদুস সামা‌দের কা‌ছে মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) তদন্ত প্র‌তি‌বেদনটি দা‌খিল করা হয়।

বিষয়টি জানিয়ে বুধবার রা‌তে তদন্ত ক‌মি‌টির সদস্য ও নৌপ‌রিবহন মন্ত্রণাল‌য়ের উপসচিব এস এম শাহ্ হাবিবুর রহমান ব‌লেন, তদন্তে প্রমা‌ণিত হ‌য়ে‌ছে- ভিআইপির কারণেই ফেরিটি তিন ঘণ্টা দেরি ক‌রে। অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে থাকার সময় রোগীর মৃত্যু হয়। সেই ভিআইপি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কেউ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন যুগ্মসচিব, তার নাম আব্দুস সবুর মন্ডল, তিনি এটুআই প্রকল্পে আছেন।

তিনি বলেন, আমরা ঘাটের লোকজন, স্থানীয় সাংবাদিক, আবদুস সবুর মন্ডল, মারা যাওয়া তিতাসের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। যুগ্মসচিব ম্যানেজারের সঙ্গে কখন, কতবার কথা বলেছেন, কী বলেছেন তা বিটিআরসি থেকে আমরা নিয়েছি। ‌নিহত তিতা‌সের আত্মীয়-স্বজন ৯৯৯-এ ফোন দেয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। ফোনরেকর্ড ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা দেখেছি যে ফেরিটি তিন ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। আর এই বিলম্বের জন্য যুগ্মসচিব আব্দুস সবুর মন্ডল দায়ী।

তিনি বলেন, ভ্রমণসূচি ছাড়া আব্দুস সবুর মন্ডলকে ভিআইপি সুবিধা দি‌তে ঘাটের ম্যানেজার আব্দুস সালাম, উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া ফে‌রি দেরি করিয়ে কর্তব্যে অবহেলা করেছে। এ জন্য তাদেরও দায়ী করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের একটা সার্কুলার আছে সেখানে বলা আছে লাশ, অ্যাম্বুলেন্স, মূল্যবান পচনশীল দ্রব্য- এগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করতে হবে। এখানে এটা মানা হয়নি, এটা যথাযথভাবে মানার জন্য বলা হয়েছে।

হা‌বিবুর রহমান আরও ব‌লেন, ভিআইপি সুবিধা পাওয়ার ক্ষে‌ত্রে আগে থেকে ভ্রমণবিবরণী পাঠাতে হবে। কেউ যাতে ব্যক্তিগতভাবে ভিআইপি সুবিধা নিতে না পারে, সেই বিষয়ে বলা হয়েছে তদন্ত প্র‌তি‌বেদ‌নে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি বসে থাকায় ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার ৪দিন পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিতাসের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। এরপর গত ২৯ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিককে প্রধান ক‌রে তিন সদ‌স্যের তদন্ত ক‌মি‌টি গঠন করা হয়। সদস্য হিসেবে ছি‌লেন- যুগ্মসচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান এবং উপসচিব এস এম শাহ্ হাবিবুর রহমান হাকিম।

” সরিষার মধ্যে ভুত ” সাবেক মন্ত্রীর ভুরিভোজ, শিবির নেতার বাড়িতে”, নেতাকর্মীরা দোষলেন স্থানীয় আ.লীগকে

সিলেট-৬ আসনের অর্ন্তভূক্ত গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের এখলাছপুর গ্রামে একটি কর্মসূচিতে যান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রোগ্রাম শেষে ওই এলাকার বেলাল হোসেনের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে বেলাল হোসেনের আমন্ত্রণে ভুরিভোজ করেন।

জানা যায়- বেলাল আহমদ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা শিবিরের সভাপতি। তার ভাই আলী হোসেন কানাডা বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানাডা সফরকালে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামনের সারিতে ছিলেন। এছাড়াও তিনি সেখানকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির একজন সক্রিয় নেতা।

দাওয়াতে নুরুল ইসলামের নাহিদের সাথে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনসুর আহমদসহ আরো কয়েকজন নেতা।

এদিকে একজন শিবির নেতার বাড়িতে সাবেক মন্ত্রীর ভুরিভোজকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হলে স্থানীয় এক আ.লীগ নেতা বলেন, গোলাপগঞ্জ সাবেক এ মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকার সবই তাঁর শুভাকাঙ্খী। তাছাড়া বেলাল হোসেনের বাড়িতে তিনি ভুরিভোজ করতে যাননি, সেখানে একটি প্রোগ্রাম ছিল তিনি গিয়েছিলাম।

আওয়ামী লীগের এ নেতা আরও বলেন- শিবির সভাপতির বাড়িতে ভুরিভোজ করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা। এর জন্য কোনভাবেই সাবেক মন্ত্রী দায়ী নয়। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার নির্বাচনী এলাকায় যেকারও বাড়িতে গিয়ে ভুরিভোজ করতে পারেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উচিত ছিলো- মন্ত্রীর ভুরিভোজের অনুষ্ঠানটি কার বাড়িতে হচ্ছে, তা খোঁজ খবর নেওয়া।

Design a site like this with WordPress.com
Get started